অর্থনৈতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নিরসনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে—যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তা অনেকটাই কমে এসেছে। এর ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসছে, এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যখন চূড়ান্ত উত্তেজনায় পৌঁছায়, তখন বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। উল্লেখ্য, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে সরবরাহ হয়। ফলে সংঘাত শুরুর পর Brent ও WTI উভয় মার্কেটেই তেলের দাম ১০–১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরপরই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে তেলের মূল্য একযোগে কমে এসেছে, যা ইঙ্গিত দেয়—বিনিয়োগকারীরা এই যুদ্ধবিরতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছেন।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল চালিকাশক্তি হলো সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সরবরাহপথ হুমকির মুখে পড়েছিল। যুদ্ধবিরতির ফলে সেই অনিশ্চয়তা বহুলাংশে প্রশমিত হয়েছে।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Rystad Energy-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জন ম্যাকলিস জানান, “মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সরবরাহের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। এর ফলে মূল্য আরও স্থিতিশীল থাকবে বলে আমরা আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে মার্কিন স্টক এবং চীনের রিফাইনিং চাহিদা তেমন পরিবর্তন হয়নি। ফলে বাজার এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিই বেশি প্রতিক্রিয়াশীল।”
বিশ্বের প্রধান তেল ক্রেতা দেশগুলো—যেমন চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া—সম্প্রতি ক্রয়াদেশ স্থগিত রেখেছিল সংঘাতের অস্থিরতায়। যুদ্ধবিরতির পর এসব দেশ পুনরায় অর্ডার পুনর্বিন্যাস করতে শুরু করেছে, যা বাজারে স্থিতি আনতে সাহায্য করেছে।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকস জানায়, এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীরা মূলত তিনটি বিষয়ের দিকে নজর রাখছেন—
যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা
ওপেক ও ওপেক প্লাস দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
যদিও ওপেক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কোনো জরুরি বৈঠকের ঘোষণা দেয়নি, তবে অভ্যন্তরীণভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য হ্রাসের প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি হতে পারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি ব্যয় হ্রাসের সুযোগ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. সাদিয়া ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে আমাদের আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের মূল্য কমে যাবে। এর ফলে ট্রান্সপোর্ট, উৎপাদন খরচ কমবে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই সুফল নির্ভর করবে তেলের দামের স্থায়িত্বের ওপর। তা যদি সাময়িক হয়, তাহলে দেশীয় বাজারে এর প্রভাব ততটা গভীর হবে না।”
বিশ্বব্যাপী ব্যাংক অব আমেরিকা, JP Morgan, এবং IEA (International Energy Agency)-এর মূল্য পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তবে Brent তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬৫–৭০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকবে।
তবে যদি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়, কিংবা হরমুজ প্রণালিতে আবারো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে মূল্য আবার ৮০ ডলার বা তার বেশি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |